ননি আপার গল্প

বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বপাশেই ত্রিপল দিয়ে বেন্না পাতার ছাওনির মতো একটি ঘড়। সেখানে ২০-২৫ জন ছেলে – মেয়ে পড়া লেখা করছে। ওরা এই স্টেশনের আশে পাশেই ঘুড়ে বেড়ায়। এখানে ঘুমাই। তাদের নিয়েই ননি আপার এই নবদিগন্তের পাঠশালা।

এই শিশুদের নিয়ে কিছু করার ইচ্ছা ছিলো তার। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় এই গোত্রপরিচয় হীন শিশুদের সাথে মিশতে শুরু করেন তিনি। প্রথমে তেমন কেউ পাত্তাই দিতো। প্রতিদিন মিশতে মিশতে তাদের বন্ধু হয়ে যান।কোন কোন দিন অনেক রাত হয়ে যেত। তাদের বলেন লেখা পড়ার কথা। কেউ কেউ আসতে শুরু করে । তাদের নিয়ে তিনি খুলেন নবদিগন্তের পাঠশালা। মেয়েদের একটু বয়স বাড়লেই শুরু হতো অন্যরকম সমস্য। মেয়েদের জন্য একটি ঘড় ভাড়া করেন তিনি। তাদের বিয়েরও ব্যবস্থ্যা করেন। আবার  অনেকে হারিয়ে গেছ্। এ নিয়ে আফসোস হয় তার।

২০০৯ সাল থেকে কাজ শুরু করেন তিনি। হয়েছেন নানা সমস্যার সম্মুখিন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও মাঝে মাঝে তাদের বাধা দিয়েছেন। কিন্তু নাছোরবান্দার মতো লেগে থেকেছেন তাদের পিছনে পিছনে। সপ্তাহের প্রায় প্রতিাদনই অসুখ-বিসুখ লেগে থাকতো। কোন দিন কারো হাত ভাংতো কোন দিন ভাংতো পা। তাদের নিয়ে যেতেন ঢাকা মেডিকেলে। এভাবে নিয়মিত যাওয়া আসায় ডাক্তারাও তাকে চিনে ফেলেন। ডাক্েতারদের মুখ থেকে ননি আপার গল্প শুনে একজন ল-ইয়ার তাদের কিছু টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে তুলা হয় এই স্কুল ঘড়। কয়েকটি মেয়েকে বিয়েও দেযা হয় ঐ টাকা থেকে।

স্ট্যামফোর্ডে স্থাপত্য বিদ্যার শেষ বর্ষে পড়ছেন। পড়ারেখার চাপের কারণে ১০০০ টাকা দিয়ে একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এই টাকা তার এক স্যার তাকে দিচ্ছেন। বন্ধুদের অনেকে প্রথম দিকে উৎসাহ দিলে এখন আর আসেন না্ । তারা ফেবুতে বন্ধু করতে সময় দেন বেশি। এই অভাগা দের সাথে মিশলে তাদের সামাজিক স্ট্যাটাশ নাকি নষ্ট হয়।

হাসান, আরিফরা এখন দাড়িয়েছেন ননি আপার পাশে। তারাও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। আমরা সবাই যদি এই ননি আপার মতো ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে এগিযে আসি অবশ্যই একদিন আমাদের এই দেশটা ঘুড়ে দাড়াবে।

আজ বিকেলে গিয়েছিলামি এই বিদ্যালয়টি দেখতে। পরিচয় হয় অনেকের সাথে। ফেরারা পথে গল্প হয় সাদেক ভাইয়ের সাথে। যিনি আমেরিকা থেকে চলে এসেছেন দেশে। গড়ে তুলেছেন সফটওয়্যার ফার্ম। দেশ সেবার প্রতিষ্ঠা করেছেন পড়শি ফাউন্ডেশন। সেই গল্প আরেক দিন বলবো। গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন করতে গিয়ে কতো মানুষের সাথেই না পরিচয় হচ্ছে।

Facebook Twitter LinkedIn Email

আপনার মতামত লিখুন :