জনগণের ভরসা জনগণই

জনগণের ভরসা জনগণই

১৯৬৫ সালে ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছিল।যুদ্ধে বাঙ্গালিরা দেখলো বাংলাদেশকে(তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) রক্ষা করার কোন ইচ্ছাই পাকিস্তানের ছিলো না।ভারত ইচ্ছে করলে বাংলাদেশকে দখল করে নিতে পারতো। আর তাই ১৯৬৬ সালে বাঙ্গালী জাতির মুক্তির মহাসনদ ৬ দফা ঘোষিত হলো।
২০১৭ সাল। স্বাধীন বাংলাদেশ। উজান থেকে নেমে আাস ঢলে যে ভাবে অকস্মাৎ প্লাবিত হয়ে গেল উত্তর বঙ্গ তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা না হলেও সেটা যে ভয়াবহ হবে সেটা বুঝতে আর বাকি থাকল না। এই বন্যা যতটুকু প্রাকৃতিক তারচেয়ে অনেকটা যে ভূ-রানৈতিক আশা করি সেটা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন।
কিন্তু আমার এই লেখা ভিন্ন কারণে।৮৮ র বন্যা আমি দেখেছি। শুধু আমি না যে ভয়াবহ ঘটনা সে বন্যায় ঘটেছিল তা উত্তর টাঙ্গাইলের মানুষ আজও ভুলতে পারে নি।তাই যখন তারা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পারলো ভূঞাপুর -তারাকান্দি বাঁধ হুমকীর মুখে। তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। তারা প্রশাসন এবং রাজনীতীবিদদের নিকট দাবি জানাতে থাকলো রাধঁ রক্ষার জন্য যেন সেনা মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সে সব দাবি তুলে ধরা হলো । বিশেষ করে ডিবিসি চ্যানেল প্রতিদিন লাইভ প্রচার করে জনগণের দাবির যুক্তিকতা তুলে ধরল স্বচিত্র প্রমাণ দিয়ে।
কিন্তু হায় তবুও তাদের ঘুম কাটলো না। ধ্বসে যাওয়া বাধেঁর সামেন বা লিক হওয়া জায়গায় গিয়ে চলল তাদের ফটোসেশনের মহড়া। জনগণের দাবির প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপই তারা করলেন না।
কপাল ভালো জনগনের সামনে ৯৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতা ছিলো্ । সে সময় সেনাবাহিনী কোন জায়গা দিয়ে পানি বের হলে বালির বস্তা দিয়ে রিং তৈরি করতো। এবার জনগণ নিজে থেকেই সেই প্রযুক্তিটা ব্যবহার করলো এবং অবাক করার বিষয় তারা সফলও হলো । শুধু স্থলের ভাইয়েরা ব্যার্থ হলো। সেখানে বাধঁটা বাঁচানো গেলো না। রাত্রে যখন এই নিউজ প্রচারিত হলো । তখন গোপালপুর ও ঘাটইলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হলে মানুষ যা করে তারা তাই করছিলেন। গভীর রাত্রে নিজের বাড়ি ঘর ছেড়ে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটলেন। ঐ দিন রাত্রে গোপালপুর-ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শাত শত ফোন আসে। কতোটা আতঙ্কিত হলে মানুষ এসব করতে পারে প্রিয় পাঠক আপনারা সেটা অনুমান করে নেন।
তারপর ভাগ্যও কিছুটা সহায় হয়েছে। বিশেষ করে গুলিপেচা অংশে । সেখানে লিক দিয়ে পানি বের হয়ে একটা সুড়ঙ্গ তৈরি করার পরই রোডটি নিজে থেকেই ধ্বসে পড়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই দৃশ্য দেখে ঐ এলাকার মানুষ আতঙ্কে শিউরে উঠে। যদি রাস্তাটা দেবে না যেত কতো ভংঙ্কর পরিস্থিতিই না হতো। আর গত ৩ দিনে কোন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেকটাই সেভ রয়েছে এই ভংঙ্কর জায়গাগুলো।
আজকে থেকে বন্যার পানি কমে যাচ্ছে। হয়তো কিছুটা বিপদ মুক্ত হয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে শুধু বস্তা আর বালি ভিন্ন আর কোন সহযোগিতা করা হয় নি। করবেই কেমনে ,তাদের তো জনবল নেই। সরকারের এমন কোন সংস্থাও নেই। তাই অতীতে দেখা গেছে এই পরিস্থিতী মোকাবেলা করতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এইবারো বাংলদেশের বিভিন্ন জাগায় সেনা মোতায়েন করা হলো। আর আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম- এতোটা হুমকীর মুখে থেকেও, এতোবার দাবি করেও আমাদের জন্য সেনা মোতায়েন করা হলো না। এটা কী প্রশাসনের গাফিলতি, রাজনীতীবিদদের হঠকারিতা,নাকি বন্যাকেন্দ্রিক ত্রাণ রাজনীতীর একটা অংশ। বন্ধুরা এসব নিয়ে ভাববার, বুঝবার এবং কথা বলার সময় হয়েছে।
৬৫ সালের মতো এবারের বন্যায় আমরা দেখলাম, আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্র, ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদেদের কাছে কতোটা অসহায়।প্রমাণ হলো শুধু শাসক চেঞ্চ হয়েছে চরিত্র একই রয়ে গেছে। আবারো প্রমাণিত হলো জনগণের ভরসা জনগণই।

Facebook Twitter LinkedIn Email

আপনার মতামত লিখুন :