আমরাও পারবো

গত ২২ ডিসেম্বর ছিলো আমাদের পদযাত্রা। অর্জুনা থেকে যমুনা সেতু। দলে ছিলাম ৯ জন। অর্জুনা শহীদ মিনার থেকে যাত্রা শুরু করে গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের স্বপ্নের কলেজ হাজী ইসমাইল খাঁ কলেজ হয়ে কুঠি বয়ড়া ছাড়িয়ে তারাই, বলরামপুর, পলিশা, বাহাদিপুর মারিয়ে আমরা যখন ভূঞাপুর তখন েসকাল ১০টা। সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয়েছিলো আমাদের এ যাত্রা।প্রতি গ্রামে হোক একটি পাঠাগার। গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনরে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের ৩টি প্রতিষ্ঠানের ৯ সদস্য এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। অর্জুনা অন্বেষা পাঠাগার, লাইসিয়াম গণিত ও বিজ্ঞান সংঘ , ভূঞাপুর, বোসন বিজ্ঞান সংঘ, টাঙ্গাইল।

মুক্তিযুদ্ধের এক ঐতিহ্যবাহী এলাকা ভূঞাপুর। ৯ মাসের বেশিরভাগ সময়ই ছিলো এই এলাকা মুকাঞ্চল। কাদেরীয়া বাহীনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় হেড কোয়ার্টার ছিলো ভূঞাপর। সেই ভূঞাপুরকে পেছনের রেখে আমরা আরো পশ্চিম দিকে এগুতে থাকলাম। উত্তরের গ্রাম ছাব্বিশা। সেখানে ৭১ সালে বড় ধরণের গণহত্যা হয়। গোবিন্দাসী বাজারে দুপরের খাবার খেয়ে আমরা আরো ১ ঘন্টা হাটলাম। সামনে মাটিকাটা গ্রাম। এখানে যমুনার নারী ছিড়ে একটি নদী বেরিয়ে গিয়েছিলো । নাম ধলেশ্বরী। এখন আর সেটি নেই। যমুনা সেতুর কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখনেই ৭১ সালে ঘটে বাঙ্গালীর চরম গৌরবের একটি ঘটনা। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ৭টি জাহাজ যাচ্ছে । টাঙ্গাইল মুক্তিবাহীরীর কাছে খবর এসেছে। জাহাজগুলো দিয়ে বাঙ্গালীদের নিধন করার জন্য অস্ত্র আনা হচ্ছে। হাবিব কমান্ডারের উপর নির্দেশ দেয়া হলো ঐ জাহাজ দখলে নেয়ার জন্য। হাবিব কমান্ডার উৎ পেতে রইলেন। বাঙ্গালী সারেং একটি জাহাজকে ধলেশ্বরীরর বুকে আটকিয়ে দিলেন। হাবিব কমান্ডার ঝাপিয়ে পড়লেন জাহাজের উপর। ৫ টি জাহাজ চলে গেলেও ২টি ধরা পড়ল মুক্তিবাহীনীর হাতে। আসলে ঐ ৫টিতে কোন অস্ত্র ছিলো না। তাই ঐ ৫টিকে নিবিঙ্গে যেতে দেওয়া হয়েছিলো। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এসে ২টি জাহাজ থেকে যতটুকু সম্ভব অস্ত্র নামালো । তারপর আগুন ধরিয়ে দিলো সেই জাহাজে। মার মুখে শুনেছি তাদের বাড়ি থেকেও নাকি আগুন দেখা গিয়েছিলো।সেই জাহাজ মারা মাটিকাটাতে আমাদের দল এসে পেীছঁলো। আমি যখন আমার ছোট ভাইদের কাছে ঐ দিনের ঘটনা বলছিলাম। আমার শরীরের লোমগুলো দাড়িয়ে গিয়েছিলো। আবেগে আমার কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিলো। সেই জাহাজমারা ঘাটে আমরা

। তোমরা যে রাষ্টের জন্ম দিয়েছিলে , ৯ মাস যুদ্ধ করেছিলে, আমরা সেই রাষ্ট্রের বিকাশের জন্য আজ রাস্তায় নেমেছি। আজ বিজয়ের এই মাসে আমরা এসেছি তোমাদের দেয়া পতাকা বইতে।আমাদের আর্শিবাদ করুন । আরো ১ ঘন্টা হাটার পর আমরা পৌঁছে গেলাম বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব-পাড়ে। দলের কনিষ্ঠ সদস্য অন্তর বলে উঠলো আসলে মানুষের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। গত ৬ ঘন্টায় আমরা হাটলাম ২৪ কিমি পথ। সত্যিই সে দিন হয়তো বেশি দূরে নয় – যে দিন “ প্রতি গ্রামে হবে একটি পাঠাগার”। একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী , অসাম্প্রদায়িক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ হবেই।

দলের সদস্য : সোহেল মেম্বার, আবদুস ছাত্তার খান, তরিকুল ইসলাম, সাদ্দাম খান, হৃদয়, শুভ, অন্তর, সাজিত,শিহাব(বোসন বিজ্ঞান সংঘ) সিজার(লাইসিয়াম গণিত ও বিজ্ঞান সংঘ)

আগামী বছর ডিসেম্বরে হাটবো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। আশা করি আপনারাও থাকবেন আমাদের পাশে। —

Facebook Twitter LinkedIn Email

আপনার মতামত লিখুন :