সমষ্টির ভিতরই মুক্তি

126 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

সমষ্টির ভিতরই মুক্তি 

সমষ্টির মুক্তির ভিতর দিয়েই ব্যক্তির মুক্তি।ব্যক্তি যখন নিজের স্বার্থকে সমষ্টির মধ্যে দেখে তখন স্বভাতই নিজের ভিতরে কোন হতাশা বোধ কাজ করে না ।তখন তার বিচরণটা হয় মঙ্গলালোকে।শুভ বোধে সে হয় আচ্ছন্ন।

ব্যক্তির সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সমষ্টিকে সাথে নিয়ে কাজ হাসিল করার প্রক্রিয়াটা মানুষ শিখেছে আদিকাল থেকেই । মানুষ নিজের অসাহায়াত্ব দূর করার জন্যই হয়েছে যুথবদ্ধ। নির্মাণ করেছে সমাজ। আর তার হাত দিয়েই নির্মাণ হয়েছে আদিমতম সংঘঠন পরিবার।

এই যে আমি যা পারি না , আমার একার পক্ষে যা সম্ভব না, তাই পারার জন্য, তা সম্ভব করার জন্যই আমি আমরা হই, আমরা সংগঠিত হই, আমরা সংঘঠন বানাই। আর এই সংঘঠনের মাধ্যমেই আমরা করি যতসব অসাধ্য কাজগুলো।

বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের অনেকগুণ থাকলেও সংগঠন বানাতে গিয়ে আমরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা একত্রিত হই যেন বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য। অপরের দোষ প্রকাশ করতে আমরা যতটা আগ্রহী নিজের দোষ ঢাকতে ততটাই সাবধানী। ফলে আমরা যুথবদ্ধ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে যাই ।

বাঙ্গালীর রাষ্ট্র চর্চার দিকে তাকালেই সেটা আরো স্পষ্ট হবে। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙ্গালী অন্যের দ্বারাই শাসিত হয়েছে। রাজ্যে কে আসল আর কে গেল তাতে মনে হয় খুব একটা মাথা ব্যাথ তার ছিলো না । গত ৪৩ বছর ধরে সে যে রাষ্ট্র চর্চা করছে তাতে এই দিকটা আরো স্পষ্ট।নিজেদের সমস্যা নিজেরা মিটাতে তাদের যতটা অনাগ্রহ কিন্তু বিদেশী বাবুদের মধ্যস্থতায় তাদের বসতে ততটাই আগ্রহ। এটার প্রধান কারণই হচ্ছে সংগঠনের চর্চা না করা।

একটা সংগঠন বানাতে গেলে পারস্পরিক যে শ্রদ্ধাবোধ থাকা দরকার, বিশ্বাস থাকা দরকার সহনশীলতা থাকা দরকার তার কোনটিই আমাদের মধ্যে নেই। ফলে সমস্যাগুলো না মিটে তা আরো পাহাড়সম হচ্ছে।

আমরা ব্যক্তির অনেক সফলতা হাজির করতে পারবো । কিন্তু সমষ্টির সফলতা নাই বললেই চলে। স্বাধীনতার পরে আমাদের সমাজে কতোজন কোটিপতি হয়েছে সেটার দিকে তাকালেই  বুঝা যাবে।নিজের বাড়িটা সু্ন্দর করে বানালেও বাড়ির সামনের রাস্তাটা নোংরা করতে আমরা উস্তাদ। মাসের পর মাস সেটা ভাঙ্গা-চোরা থাকলেও আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। বাড়ির ময়লাগুলো সেখানে ফেলে আসাটাকে আমরা পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করি।

এর বড় কারণই হচ্ছে আমরা সংগঠিত না। আমরা সংগঠনের প্রতি আগ্রহী না বলেই সমাজের অনেক অন্যায় আমরা মেনে নেই । কারণ ব্যক্তির শক্তি দিয়ে কখনোই কোন অন্যয়ের প্র্রতিবাদ করা যায় না। বা বড় কোন কাজও করা যায় না। রাশিয়া যখন চীন থেকে তার সমস্ত সহযোগিতা সরিয়ে নিয়েছিলো তখন চীনকে রক্ষা করেছিলো চীনের কমিউনগুলো । কারণ এই কমিউনের মাধ্যমে চীনের কৃষকরা সংগঠিত ছিলো ।
ব্যক্তি যেখানে একা সমষ্টি সেখানে বৃহৎ। ব্যক্তি যেখানে অসফল সমষ্টি সেখানে সফল। ব্যক্তি যেখানে অসহায় সমষ্টি সেখানে বীর।তাই আমাদের মুক্তি আসবে তখন যখন আমরা ব্যক্তির স্বার্থকে সমষ্টির স্বার্থ হিসেবে দেখবো। তাই আমাদের সংগঠিত হতে হবে । সংগঠন বানাতে হবে। তাহলেই আমাদের মুক্তি আসবে।