গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন কী এনজিও?

51 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

বছর তিনেক আগে এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছিল।ওনি একটা বড় এনজিওর কর্ণধার।ঢাকা শহরের এক নামিদামি স্কুলে ছেলে-মেয়েদের হাত ধুইয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ছিলেন।কথা প্রসঙ্গে একবার এনজিও নিয়ে ঠাট্টা সমকরা করেছিলাম । খুব রেগে গিয়েছিলেন । আমাকে তার বাণী বাণে জর্জরিত করে ফেললেন। বললেন আপনাদের গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন কি সরকারি প্রতিষ্ঠান? আমি নাদান বালকের মতো উত্তর দিলাম ‘না’।তাহলে কী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান? আমি আগের চেয়ে জোরে মাথা ঝাকিয়ে বললাম ”না” ওনি রেগে গিয়ে বললেন তাহলে কী? আমি বললাম গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন সরকারিও না বেসরকারিও না এটা হলো দরকারী প্রতিষ্ঠান।

গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন মনে করে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়গুলোতে এনজিও যতটুকু দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছে তার চেয়ে ক্ষতি করেছে ঢের। নৈতিকথার অবনমন, হঠাৎ কিছু মানুষের যুক্তিহীন সম্পদশালী হওয়া, দেশের রাজনীতীতে নাক গলানো, জঙ্গিবাদের উত্থান, বিদেশী প্রভুদের উত্থান, গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারগুলোর ভাঙ্গন, ব্যাক্তি বিচ্ছিন্নতা, ক্ষুদ্র ঋণের নামে গ্রামের পুঁজি শোষণ করা, কৃষকের কাজ থেকে বীজ কেড়ে নিয়ে তাকে তাদের উপর নির্ভশীল কার, শিক্ষা, স্থাথ্য নানা খাতে সেবার নাম করে ব্যাবসা করে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংশ করে ফেলা এ হেন অপরাধ নাই যা এই এনজিওগুলো করে নাই।

একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নামকরা সংগঠন আমাদের ঢেকেছিলেন গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন নিয়ে তাদের সংগঠনে কিছু আলোচনা করতে। কথা বলার আগে তাদের আচার্য়ের সাথে একটা সাক্ষাৎকার দিতে হবে। কথা প্রসঙ্গে সেই মহাত্মার কাছে আমরা আমাদের এনজিও ভীতীর কথা বলেছিলাম।যুক্তিবাদী সেই মহাত্ম আমাদের কাছে যুক্তি দাবি করলেন কোন যুক্তি বলে আমরা এনজিওর মতো পবিত্র জীনিসে কলঙ্ক লেপন করছি।পরে কথা বলা তো দূরের কথা অর্ধচন্দ্র খেয়ে আমাদের চলে আসতে হয়েছিলো।

গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন মনে করে ভেতর থেকে যদি কোন জনগোষ্ঠিকে না জাগানো যায় বাইরে থেকে কোন উন্নয়ন মডেল এনে তাকে জাগানো যাবে না। তাদিগটা আসতে হবে ঐ জনগোষ্ঠির ভেতর থেকে। তাদের সমস্যা তাদেরই উপলব্ধি করতে হবে।আর তা সমাধানের ফতোয়া তাদেরই বাতলে দিতে হবে। কোন সংগঠনের কাজ হলো এটা যে তারা পারে সেই আত্মবিশ্বাসটা তাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।

সমাজের সমস্যাগুরো চিহ্নিত করা, স্থানীয় কাঁচামাল, প্রযুক্তি, পুঁজি দিয়ে এটা যে তারা নিজেরাই সমাধান করতে পারে এই চিন্তাটা সরবরাহ করাটাই হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ।

জনগণের সেবা করাই এনজিওগুলোর কথিত কাজ। এটা প্রকট বৈশিষ্ট হলেও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট হচ্ছে এটা তার রুটি –রুজিরও ব্যাবস্থা করে থাকে।তারা তাদের প্রভুদের কাছ থেকে টাকা আনেন সমাজের একটা প্রকট সমস্যাকে সমাধানের জন্য।তাদের কথিত চিন্তা অনুযায়ী কাজ করলে কয়েক বছরের মধ্যে সমাজের অমুক সমস্যা থেকে এতোগুলো আদম সন্তান কষ্টের হাত থেকে রেহাই পাবেন।কিন্তু সমস্যা বাধে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে।কারণ তখন তার বাল-বাচ্চারা বিপদে পড়েন। সমস্যা মিটে গেলে প্রভুরা আর টাকা দিবেন না। ফলে তাদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে যাবে। অবশ্যই তখন তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আরো একটি সমস্যার উদ্ভাবন করতে হবে অখবা ঐ সমস্যাকে রাবারের মতো টেনে লম্বার করতে হবে।এমনি করে নিরলসভাবে অবিচ্ছিন্ন ধারায় দেশকে মিশকিনের জাত হিসেবে প্রমাণ করাই তাদের একমাত্র চাকরি।

কথা বলতে পারা শিশুটিও জানে আগামীকাল সূর্য পূর্ব দিকে উঠবে। এজন্য তাকে জ্যোতির্বীদ হতে হয়না। প্রতি দিন দেখে দেখে এই সত্য সে আবিস্কার করে ফেলেছে এমনি ভাবে আমরাও এই সত্যটা উচ্চারণ করতে পারি-স্বাধীনাতার ৪২ বছর পরেও তারা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না অমুক গ্রাম থেকে তারা দারিদ্র দূর করেছে, অমুক গ্রামের কোন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে।অতএব আগামীতেও য়ে বলতে পারবে না এটা আমরা হলপ করে বলতে পারি।

আমরা পাঠাগার বলতে বুঝাই একদল সংঘবদ্ধ মানুষ যখন তার এলাকার কোন সমস্যা চিহ্নি করে তারা সমাধানের জন্য নিজেদের পুজিঁ দিয়ে, শ্রম দিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে তার সামাধানের জন্য এগিয়ে আসে তখন ঐ সংঘবদ্ধ মানুষগুলোকেই আমরা বলি পাঠাগার। আর এই যুথবদ্ধ মানুষ গড়ে তুলার কাজটাই করে গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন। এখানে পাঠাগার একটা পাটাতন মাত্র তার আসল অবয়ব হলো এই প্রতিশ্রুতিশীল, স্বেচ্ছাপ্রণদিত সংঘবদ্ধ মানুষ।