গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের স্বপ্নের কলেজের

74 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

একটি স্বপ্নের কথা গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন : প্রতি গ্রামে হোক একটি পাঠাগার। গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন সমাজ পরিবর্তনে অঙ্গিকারাব্দ একটি প্রতিষ্ঠাণ; যারা কাজ করবে গ্রামে গ্রামে।শিক্ষা স্বাস্থ্য অবকাঠামো ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে কাজ করবে তারা। অর্থ্যৎ আমাদের গ্রাম সাজাবো আমরা। নিজেদের শ্রমে , ঘামে অর্থে আমরা গড়ে তুলবো আমাদের গ্রাম। এরকমই ভাবনা নিয়ে শুরু হয় গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন। সারা দেশের গ্রাম গুলোতে পাঠাগার দিয়ে দিযে একটা নেটওযার্ক গড়ে তুলা হবে। যাতে একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসতে পারে দ্রুত । যে কেউ যুক্ত হতে পারে আমাদের এ আন্দোলনের সাথে। ধরা বাধা কোন নিয়ম নেই। কেউ তার গ্রামে একটি পাঠাগার দিতে চাইলেই আমরা বাড়িয়ে দিবো আমাদের হাত । গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন এই বছরেই প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে একটি কলেজ। কলেজ হবে গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের একটি প্রতিষ্ঠাণ। গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের আইডিয়াকে দ্রুত প্রসার ঘটানোর জন্য একটা প্রতিষ্ঠাণ হিসেবে এই কলেজ এবং লেখা পড়ার বাইরে শিক্ষার্থীদেরকে সমাজ উন্নয়ন ভাবনার সাথে সেতু বন্ধন তৈরি করবে এই প্রতিষ্ঠাণ। আপাতোতো এটি একটি পাইলট প্রেজেক্ট হিসেবে কাজ করবে। কলেজের শিক্ষা দর্শন রবীন্দ্রনাখের তপোবন দর্শন : রবীন্দ্রনাখের মতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করবে প্রকৃতি থেকে। তাই কলেজটি হবে প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে। কলেজে থাকবে নানা ধরণের ভেষজ, ফলজ, বনজ বৃক্ষ।তা ছাড়া প্রস্তাবিত কলেজ থেকে আধা কিলো পশ্চিমে আছে যমুনা নদী। আর পূর্বে আছে তেরিল্লা ও বর্ষারা বিল। প্রকৃতির এই সমস্ত পরিবেশ থেকেই সে শিক্ষা গ্রহণ করবে। প্রকৃতি থেকেই শিক্ষার্থী চারপাশের সমস্ত বস্তু জগতের সাথে নিজের আত্মীয়তা অনুভব করবে। সে যে এই বস্তু জগতেরই একটা অংশ সেটা বুঝতে শিখবে। বুহুদিনের ভুয়ো দর্শন তার ভিতরে যে একটা অহং বোধের জন্ম দিয়েছে তার বিলুপ্তি ঘটবে। অতি ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়ার যে বেচেঁ থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে তা স্বীকার করার মানসিকতা জেগে উঠবে।মোট কথা নিজেকে এই সবের থেকে শ্রেষ্ঠ বা এই সব সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। গান্ধীর নঈ তালিম দর্শন : একজন ব্যক্তি মানুষের দৈন্দিন জীবনে যে সমস্ত কাজ জানা থাকা দরকার তা তাকে শিক্ষা দেয়া হবে যাতে নিজেদের কাজ নিজেরাই করতে পারে। টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল, ঘড়ের বিদ্যুৎ সংযোগ ইত্যাদি কাজ। যাতে সে নিজেকে একজন কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীর মনে হীনমন্যতা বোধের জ্ন্ম দেয়। নতুন কিছু চিন্তা করা, আবিষ্কার করা ইত্যাদি সবই সাদা চামড়াদের কর্ম। আমাদের কাজ কেরানিগিরী।চিন্তা করার স্বাধীনতাকে খর্ব করে মুখস্ত করা তোতা পাখি বানানো হয় আমাদের শিক্ষার্থীদের।মুখস্ত করা বিদ্যাকে পরীক্ষার হলে গিয়ে উদগিরণ করে তারা একটা সার্টিফিকেট পান কে কতো বড় নকলনবিশ হবেন তার জন্য।তার উপর আবার বিদেশের নানা ব্যর্থ্য শিক্ষাপদ্ধতীর গিনিপিগ হতে হয় আমাদের শিক্ষার্থীদের। এই শিক্ষা দর্শন শিক্ষার্থীদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।সমাজের জন্য তাঁর যে একটা প্রয়োজনীয়তা আছে সেটা সে উপলব্দি করতে শিখবে। এই দুই শিক্ষা দর্শনের মিলনে তৈরি হবে সহজ মানুষ। যারা একই সাথে নিজেকে প্রকৃতির সন্তান এবং সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে চলা চলনক্ষম একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিাষ্ঠত করবে। সমাজের সাথে তার সেতু বন্ধন : সাধারণত সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে শিক্ষা কার্যক্রম। বাকি সময় এই অবকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে। যেহেতু কলেজটি গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের একটি প্রতিষ্ঠাণ তাই গ্রাম উন্নয়নের নানা ভাবনার সাথে এই কলেজ যুক্ত থাকবে। যেমন ধরুন কৃষকেরা কী ধরণের ফসল রোপণ করেন।এই ফসরের ঝুকিঁ কী, সীমীত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যেতে পারে, কোন ফসলে ঝুকি কম, বিকল্প কী ফসল চাষ করা যেতে পারে ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে কৃষকের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করবে। প্রযুক্তির সাথে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলার জন্য আয়োজন করবে বিভিন্ন কর্মশালার। গ্রামের তরুণদের দক্ষ জনসম্পদে পরীণত করার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়দিী কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। গ্রামীণ নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে এই কলেজ। এইসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয়দের সাথে কলেজের একটা সম্পর্ক স্থাপন হবে।ফলে স্থানীয়রাই এই কলেজ পরিচলনার জন্য নানা ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করে থকবে। উদ্ভোধন : ২২ শে ডিসেম্ভর ২০১৩ ক্লাস কার্যক্রম শুরু : ১ জুলাই ২০১৫ সকলের সহযোগিতাই সম্ভব এই বিশাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন।তাই আমরা সকলের বুদ্ধি ,পরামর্শ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কামনা করছি।