গ্রাম পর্যটন

149 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়


“ফিরে চল, ফিরে চল, ফিরে চল মাটির টানে
যে মাটি আচঁল পেতে বসে আছে মুখের পানে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গ্রামই হবে আমাদের পর্যটন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের সহজ সরল জীবন যাপন পদ্ধতি, উদ্ভিদ, বিভিন্ন পাখি, নদী, হাওড়, বিল, ঝিল, বিভিন্ন ধরণের লোকজ অনুষ্ঠান, গ্রামীণ পেশা, খেলাধুলা, প্রাচীনবৃক্ষ এইসবই হবে পর্যটকদের মনের খোরাক।
দেহাতি আর নাগরিকের ভাবনার আদান প্রদান ঘটানোর উপযুক্ত ক্ষেত্র হতে পারে এই গ্রাম পর্যটন। গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা, নতুন কোন বিষয়ে সেমিনার, বা গ্রামের স্কুল, কলেজ , পাঠাগারের জন্য বই প্রদান, খেলার সামগ্রী উপহার নানাভাবে শহুরেরা সহজেই বন্ধুত্ব করতে পারে গ্রামের মানুষের সাথে। পাখি চেনানো , গাছ চেনানো, তারা চেনানো এরকম নানা কার্যক্রম চালাতে পারে তারা।

একইভাবে পর্যটকরাও পারে গ্রামের নির্মল পরিবেশ, বয়স্ক কোন গাছের নীচে বসে শুনবে রাখালি বাশিঁর সুর, শুনবে রাত জেগে কবিয়ালের গান , বিভিন্ন পিঠে পায়েসের স্বাদ, চাঁদের আলোয় অবগাহন, জোনাকির সাথে মিতালী করা নানাভাবে উপভোগ্য হবে তার সময়।
মা-খালাদের হাতের হস্তশিল্প অনেক আদরণীয় শহরের নাগরিকদের কাছে। মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প এগুলো আবারো প্রাণ ফিরে পাবে গ্রাম ভিত্তিক পর্যটন শিল্প বিকশিত হলে।পর্যটকদের থাকা খাওয়া বাবদ অর্থের একটা প্রবাহ চলবে গ্রামের দিকে। এতে অর্থনৈতিক একটা স্বাচ্ছন্দ যেমন আসবে তেমনি প্রাণময় হয়ে ‍উঠবে আমাদের গ্রাম।

কিছু ভৌতকাঠামো উন্নয়ন আর সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলে দেখা যাবে আমাদের পর্যটনের প্রাণ ভোমরাটাই হবে গ্রাম।দেখা যাবে এতোদিন শুধু গ্রামের অর্থ শহরে এসেছে এবার শহরের কিছু অর্থ গ্রামের আসবে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে আমাদের গ্রাম। গ্রামের বাজারে বেড়ে যাবে বেচা-বিক্রির হার।
পযর্টকদেরও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। গ্রামীণ, বিশ্বাস আচার প্রথা, এসবের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। আমরা শহরে যে পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াই সেটা হয়তো গ্রামের মানুষের চোখে দৃষ্টিকটু লাগতে পারে। এমন কোন খাবার বা পানীয় না খাওয়াই উচিৎ যা গ্রামের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে।কিছু বিলাস বস্তু যা অপ্রয়োজনীয় তা পরিহার করাই শ্রেয়।অন্যথায় সে সব গ্রামের মানুষও অনুকরণ করতে পারে। পর্যটকদের এমন কিছু ফেলে আসা যাবে না যা পরিবেশের জন্য হুমকী হতে পারে।
আমরা একটু সচেতন হলেই অনেক কিছু করাই সম্ভব। একটু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করলেই সৃষ্টি হতে পারে অনেক সুন্দর কিছু। তাই বন্ধুরা আসুন গ্রামকে চিনি গ্রামকে বুঝি গ্রামের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে গ্রামে ঘুরি।