একটি বিশ্বাসের অপমৃত্যু

97 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

একটি বিশ্বাসের অপমৃত্যু
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রকর্তৃক যতগুলো
জঘণ্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তার
মধ্যে অন্যতম হলো গতবছর ৬ নভেম্বর পুলিশ
কর্তৃক গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের
বাড়িতে অগ্নিসংযোগ। একই সাথে
সরকার দলীয় লোকদের দ্বারা
মাদারগঞ্জ ও জয়পুর গ্রাম দুটি লুঠ হওয়া
ছিলো অত্যন্ত দুঃখের ও বেদনার।
বাঙ্গালী হিসেবে একটা অপরাধবোধ
কাজ করছিলো ভিতরে ভিতরে। ঘটনা
ঘটার কয়েকদিনের মধ্যে গিয়েছিলাম
ঐ গ্রাম দুটি দেখতে। তার দু’দিন পর
আবার যাই একটি দলের সাথে কিছু
ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করতে।
এই দুইদিনে আমি যা দেখতে পাই
দেখি প্রচুর সংগঠন, অনেক ব্যক্তি এই
মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধের জন্য
এগিয়ে আসছে। যা অনেকটাই আশা
ব্যঞ্জক। কিন্তু হতাশার সাথে যা লক্ষ্য
করি তা হলো একই ধরণের ত্রাণ নিয়ে
আসছে সবাই । ত্রাণ সামগ্রি বিতরণেও
কিছু অনিয়ম হচ্ছে।
আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই সমস্ত ত্রাণ
সামগ্রি দিয়ে হয়তো সাময়িকভাবে
কিছুটা কাজ হবে কিন্তু স্থায়ী কিছুই
হবে। এদের যে জিনসটার সবচেয়ে
অভাব সেটা হলো শিক্ষা। এই শিক্ষার
অভাবেই তারা যুগ যুগ ধরে নিষ্পেশিত
হয়ে আসছে কখনো ইংরেজদের দ্বারা,
কখনো বাঙ্গালী বাবুদের দ্বার কখনো
বা তথাকথিত শিক্ষিত স্বজাতিদের
দ্বার।
পুরো মাদারপুর মৌজাতে কোন স্কুল
নেই। পড়তে যেতে হয় দূরের মিলের
স্কুলে। ঐ দিনের ঘটানার পর শিশুরা
স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছিল। ফলে একটা
স্কুল প্রতিষ্ঠা করা খুব জুরুরি হয়ে
পড়ছিলো । এই নিয়ে আমি ওনাদের
অনেকের সাথে কথা বলি। িএকটা
জমিও পেয়ে যাই ।
আমি স্কুলের কথা বলে ফেইসবুকে একটা
পোস্ট দেই । আমার অনেকে বন্ধু ,
শুভাকাঙ্খিরা এগিয়ে আসেন এই স্কুল
প্রতিষ্ঠায়। এই বছর ২০ শে জানাুয়ারি
প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে
যাত্রা শুরু করে এই স্কুল। স্কুলের নামকরণ
করা হয় ভূমি উদ্ধার আন্দোলনে শহীদ
শ্যামল মঙ্গল রমেশের নামে।
ভালেই চলছিল স্কুলটি। মেয়েদের জন্য
একটি শেলাই প্রশিক্ষাণ কেন্দ্র চালু
করা হয়। একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য
প্রায় শপাচেঁক বই সংগ্রহ করা হয়।
তাদের সম্প্রদায়ের একটি ছেলে Samar
M Soren
বিশেষ ভূমিকা রাখে এই স্কুলটি
স্থাপনে। আমরাও তার উপর নির্ভরশীল
হয়ে পড়ি । সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু
গত তিনমাস ধরে তার কথা ও কাজের
মধ্যে আমরা গড়মিল দেখতে পাই ।
ফোনে এবং ফেইসবুকে আমরা নানা
ভাবে কাজের জন্য তাগাদা দিতে
থাকি যে কাজের জন্য সে টাকা
নিয়েছে। কিন্তু সে একেক সময় একেক
কথা বলায় আমাদের মনে সন্দেহ
জাগে। ফলে এই মাসের ৪ তারিখে
আমি গোবিন্দগঞ্জ যাই এবং কাজে
ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পাই ।
গতকাল মানে ৭ ই জুলাই আবার
গোবিন্দগঞ্জ যাই। স্কুল কমিটি ও Samar
M Soren কে নিয়ে বসা হয়। স্কুলের
কাজের জন্য বিভিন্ন সময় যে
টাকাগুলো দেয়া হয়েছে তার হিসেব
চাওয়া হয়। পরে সে ৪০ হাজার টাকার
হিসেবে দিতে ব্যার্থ হয়, এবং একটি
সাদা কাগজে এই বলে মুচলেকা দেয়
যে, এই মাসের ১৫ তারিখে সে ১০
হাজার টাকা পরিশোধ করবে এবং ৩১
আগস্টের মধ্যে বাকী ৩০ হাজার টাকা
পরিশোধ করবে। এই সময়ের মধ্যে সে
পরিশোধ করতে ব্যার্থ হলে তার
বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
এরই সাথে মৃত্যু হলো একটি বিশ্বাসের ।
যাই হোক যে সমস্ত বন্ধুরা এই স্কুল
স্থাপনে আমাদের সহযোগিতা
করেছেন তাদেরকে জাননোর জন্যই এই
পোস্ট।আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি
এবং জানতে পারার পর ব্যবস্থা
নিয়েছি। সমরকে স্কুলের কাজ থেকে
সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আমরা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ব্যার্থতার
জন্য। একই সাথে আশা করছি আগামীতে
এভাবে আমাদের পাশে থাকার জন্য।
যারা যারা সহযোগিতা
করেছিলেন…
১. হোপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন – ২০০০
২. জুইঁ – ৫০০
৩. দৃক ও সান এর অফিস দিয়েছে – ৯০০০
৪. নাজমুল স্যার একজন টিচারের
দায়িত্ব নিয়েছেন ( মাসে ৫ হাজার
টাকা করে দিচ্ছেন।)
৫. ভাবি (নাজমুল স্যার) একটি
কম্পিউটার দিবেন।
৬. চলচ্চিত্র পরিচালক লেনিন ভাই
–৪৫০০০
৭. নূপুর ও মহি — দুটি সেলাই মেশিন।
৮. জয় বাংলা ট্রেকিং &
মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব -৫০০০
৯. নিলয় সোবহান ও তার অপর এক বন্ধু
মিলে ২০,০০০
১০. তমাল পাউল প্রতি মাসে ৩ হাজার
করে দিবেন।
১১. মিল্টন ভাই – — ১০০০
১২. HDTBD —– ২০০০
১৩.Yap foundation — ৫০০০
১৪. Half mad human group– ২৩৫০
১৫, চিত্রশিল্পী সুমন সরকার —— ৫,০০০
১৬. হাসান মাহমুদ —-৩,০০০
১৭. শর্মীও তার বন্ধুরা -২৪,০০০