অর্ধশত পূর্ণ হলো

303 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

সোনার তরী পাঠাগারের মাধ্যমে গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের সংখ্যা অর্ধশত পূর্ণ হলো। সময় লেগে গেল প্রায় ১২ বছর।

নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করবো, নিজেদের গ্রাম নিজেরাই গড়ে তুলবো । পাঠাগারটা হবে পাটাতন। এরকমই এক ভাবনা নিয়ে ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল এই পাঠাগার আ্ন্দোলন।

অনেক বন্ধু-বান্ধব, অনেক শুভাকাঙ্খি যুক্ত হয়েছে এই আন্দোলনের সাথে। যারা বিশ্বাস করে জ্ঞান ভিত্তিক মানবিক সমাজ তৈরির জন্য পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই।

পাঠাগার করতে যে টাকা পয়সা লাগে না সেটা গত ১২ বছরে প্রমাণ হয়ে গেছে। যেটা লাগে সেটা হলো ইচ্ছে শক্তি। আপনে ইচ্ছে করলেই পারেন আপনার গ্রামে একটি পাঠাগার স্থাপন করতে। প্রথমে সমমনা বন্ধুদের একত্রিত করুন। তারপর নিজের বা গ্রামের কারো বাড়ির অথবা স্কুলের একটি রুম নেন। নিজেদের নিকট যে বইগুলো আছে সেগুলো একত্রিত করেন।তো হয়ে গেল একটি পাঠাগার। তারপর লেগে থাকুন এর পেছেনে। দেখবেন লোকজন এগিয়ে আসছে আপনার পাঠাগারে বই দিতে। কয়েক বছরের মধ্যেই দেখবেন আপনার পাঠাগারটিই আলো ছড়াচ্ছে আপনাদের গ্রামে।

তারপরও মাথায় রাখবেন এতো ভালো কাজ করছেন বলে সবাই আপনাকে মাথায় নিয়ে ধেই ধেই করে নাচবে না।একটা বিরোধী পক্ষ দাড়িয়ে যাবে।তারা অনবরত কুৎসা রটাতে থাকবে। আপনে কোন একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করছেন, গ্রামের ছেলে-মেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব করে, উপরের কারো নিকট হতে আপনে অনেক টাকা পাচ্ছেন, কোন কোন সময় দেখবেন পাঠাগারের সকল সদস্য মিলে আপনাকে বহিস্কার করতে চাবে। মানে সহজ কথায় নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে গিয়ে আপনে কিছু শুত্রু বানিয়ে ফেলেছেন ।

যাই হোক মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেল। মনে হলো এই সে দিন শুরু করলাম। ঢাকা কলেজের মাঠ, র‌্যামন পাবলিকেশনের অফিস, টিএসসি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র আর সেন্টার ফর এসিয়না আর্ট এন্ড কালচারের(CAAC) অফিসে কতো বন্ধুদের সাথে আলোচনা হয়েছে এ নিয়ে।

প্রথম থেকেই ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণর কথা মাথায় ছিলো আমাদের। তাই গ্রাম পাঠাগার আন্দোলনের কোন সাংগঠনিক কমিটি ছিলো না, আজও নেই, আশা করি আগামীতেও থাকবে না। এখানে যারা কাজ করি তারা সাবাই সংগঠক আর অফিস হচ্ছে ফেইসবুকের একটি পেইজ। কেউ কোন পাঠাগারকে সহযোগিতা করতে চাইলে আমরা শুধু ঐ পাঠাগারের সাথে তাকে যোগাযোগ করিয়ে দেই।বাকিটা তারা নিজ দায়িত্বে নিজেরাই করে নেন।

গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন একটা দর্শনের নাম। যারা মূল কথা হলো-দশ জনের মুক্তির ভিতর দিয়ে ব্যক্তির মুক্তি আসবে।আমি বা আমরা যদি গ্রামের একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারি তাহলে আমি বা আমরাই লাভবান হবো।যেমন একটা স্কুলে যদি একজন ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে কিন্তু আমার বা আমাদর ছেলেরাই উপকৃত হবে। আর দূর্বল শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে কিন্তু তার উল্টোটা ঘটবে।

এই ১২ বছরে বাংলাদেশের একটা বিস্তৃর্ণ এলাকা ঘুরেছি। অসংখ্য তরুণের সাথে মতবিনিময় করেছি।সবার ভিতরই একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছি।এই স্বপ্নই আমাদের সাহস দেয় শক্তি দেয়। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যে দিন বাংলাদেশের প্রতি গ্রামে হবে একটি পাঠাগার।

গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন’র পাঠাগারসমূহ