অর্থ সংগ্রহের কয়েক উপায়

48 জন পড়েছে

এক মিনিটের বেশি নয়

006

অর্থ সংগ্রহের কয়েক উপায় 

আমাদের মতে কোনা কাজ করার জন্য মনস্থির করলে অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। বাকি অর্ধেক কাজ করার জন্য দরকার কর্মীদের একাগ্রতা আর অর্থ।

যেহেতু গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন গ্রামের ছোট ছোট সমস্যাগুলো সমাধান কল্পে কাজ করবে তাই তার বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়বে না। বেশিরভাগ কাজ তারা নিজেরাই শাররীক শ্রম দিয়ে করে ফেলতে পারবে।তুবুও মাঝে মাঝে কিছু কাজের জন্য হয়তো অর্খও লাগতে পারে। সেটা স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আকারে তুলা যেতে পারে।কিন্তু কখনই একক ব্যক্তির কাছ থেকে সব টাকা নেয়া ঠিক হবে না।টাকা খরচের ব্যাপারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। কোন প্রকারের সন্দেহ থাকলে কোন সংগঠনই বেশি দিন টিকবে না।

কী ভাবে অর্থ সংগ্রহ করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আমারা আলোচনা করবো। প্রথমে নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করার একটা মানসিকতা থাকতে হবে। তারপর স্থানীয়দের নিকট যেতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে, এই কাজটা তাদেরই। তাদের উপকারের জন্যই আমারা এই কাজ হাতে নিয়েছি। আমরা যেমন শাররীক শ্রম দিচ্ছি একই সাথে কিছু অর্থও দিয়ছি । ৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বেশিরভাগ মানুষেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। গুটি কয়েক মানুষ হয়তো বাকা চোখে তাকাবে। তাতে ঘাবড়ে গেলে চলবে না।আর তার সাথে বাজে আচরণও করা যাবে না। কারণ আপনে তো শুধু এই বিষয় নিয়ে তার কাছে যাচ্ছেন না বা এটাই আপনার শেষ যাওয়া না।আরো নানা কাজে তার সাহায্য আপনার লাগবে। আমাদের এমনো অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, এইবার যে লোকটা সাহায্য করছে পরেরবার সে আমাদের তুমুল বিরোধীতা করছে। আর গতবার যে লোকটা বিরোধীতা করছে এইবার সে সাহায্য করছে। তাই স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কোন কথা নেই।

শুধু অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না।অর্থ সংগ্রহের কিছু উপায় উদ্ভাবন করতে হবে।

১. ছোট লিফলেট বা এক/দুই ফর্মার বুকলেট বের করা যেতে পারে। সেখানে থাকবে আপনাদের লক্ষ্য উদ্ধেশ্য বা আরো কিছু পরামর্শ মূলক লিখা। যে গুলো দিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহজেই টাকা সংগ্রহ করা যায়।

২. অনুষ্ঠান উপলক্ষে নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়েও টাকা সংগ্রহ করা যেতে পারে।

৩. রাস্তার দু’পাশে, স্কুলের আশে পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, অনাবাদী জমি নানা জায়গায় বৃক্ষরোপণ করে। এতে রথ দেখাও হবে , কলা বেচাও হবে। একই সাথে বৃক্ষ রোপণ যেমন হবে তেমনি ভবিষৎতে ঐ গাছগুলোতে আপনাদের একটা দাবিও থাকবে।এই ব্যাপারে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার কালুহুদা গ্রামের টুটুল ভাইয়ের পাঠাগারের কথা বলা যেতে পারে। তারা প্রতি বছর গ্রামের মানুষদেরকে ফলজ বৃক্ষের চারা দিয়ে থাকেন। সেই সব চারা গাছ অনেক বড় হয়েছে, ফল ধরছে। ফলে গ্রামের মানুষদের কাছে তার পাঠাগারের একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন তাড়াতাড়ি কাঠ পাবার আশায় এমন বৃক্ষ যেন না লাগান যা পরিবেশের ক্ষতি করে। তেরাস্তার মোড় বা চৌরাস্তার মোড়ে কৃষ্ণচূড়া জাতীয় বৃক্ষ লাগানোই অধিক যুক্তিযুক্ত।

৪. কেউ টাকা দিবে সেই আশায় যেমন কাজ ফেলে রাখা যাবে না, আবার টাকা হলে কাজ শুরু করবো এটাও করা যাবে না। যখন যে কাজের শুরু করা প্রয়োজন তখন সেটা শুরু করা উচিৎ। অর্খের জন্য কোন কাজ ঠেকে থাকে না। শুরু করলে কেউ না কেউ এসে পাশে দাড়াবে, অথবা কেউ না কেউ এটা শেষ করবে।

৫, সমাজ সেবা করার জন্য কেউ এনজিও করেন বা এনজিও থেকে ফান্ড নেয়ার চেষ্টা করেন। এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। গ্রামের মানুষকে জাগিয়ে তুলে যদি গ্রামের উন্নয়ন না করা হয তবে সে উন্নয়ন টেকশই হয় না। এতে করে আরো গ্রামের আত্মশক্তিও নষ্ট করা হয়।

এখানে আরো একটি কথা বলে রাখা ভালো যে – গ্রাম পাঠাগার আান্দোলন কোন নতুন পাঠাগারকে অর্থদিয়ে সাহায্য করবে কি না? এই ধরণের প্রশ্ন অনেকেই করে থকেন। আমাদের সহজ, সরল এবং স্পষ্ট উত্তর- না, গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন কোন অর্থনৈতিক সাহায্য করবে না কিন্তু পাশে থাকবে। আপনার কোন উদ্যেগ নিলে সেটাকে সফল করার জন্য সবসময়ই সে আপনাদের পাশে থাকেবে। আপনারা কোন উদ্যেগ নিলে এবং তা যদি মানুষের কাজে আসে তাহলে অবশ্যই গ্রাম পাঠাগার আন্দোলন আপনাকে ব্যর্থ হতে দিবে না।

অপ্রিয় হলেও একটা সত্য কথা বলতে হচ্ছে – টাকা সংগ্রহ করা কোন ব্যাপার না। আপনে লোকজনের কাছে গেলে লোকজন আপনার পাশে দাড়াবেই। এটা মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু সমস্যা হলো টাকা খরচ করা নিয়ে। টাকা খরচ করার যে সৃজনশীলতা থাকা দরকার তা আমাদের ভিতরে নাই বললেই চলে। সেই জন্য আমরা দেখতে পাই বিপদে আমরা যে ভাবে একত্রিত হয়ে কাজ করি অন্য সময় আমরা সেটা পারি না, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে টাকা খরচ করার সৃজনশীলতা আমাদের নেই। অর্জুনা অন্বেষা পাঠাগারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি –পাঠাগার মাত্র ৫০০০ টাকা দিয়েও ৫০,০০০ টাকার কাজ করে নিয়েছে। অথচ এই তারাই ৭০,০০০ টাকা খরচ করে ৭০০০ টাকার কাজ দেখাতে পারেনি। ফলে দেখা দেয় অস্বচ্ছতা, অবিশ্বাস আর এক অপরের প্রতি বৈরিভাব। আর এভাবেই অনেক প্রতিষ্ঠানই হারিয়ে যায় সময়ের কালো গহ্বরে।

 

সবশেষে আমরা এই কথাটা জোর দিয়ে বলতে চাই যদি কোন কাজকে আপনার জরুরী মনে হয় তাহলে আপনার পকেটের টাকা দিয়ে বা  প্রয়োজন হলে ঋণ করে হলেও কাজটা শুরু করে দেন। পরে দেখবেন আপনার পাশে কতো লোক এসে জড়ো হয়েছে।

005